ব্রেকিংপ্রথম পাতা

স্মার্টফোনের গ্রাসে হারিয়ে যাচ্ছে শৈশব! চুরাইবাড়ির সেবক সংঘের ১৮তম শ্যামাপূজায় সমাজকে সচেতন করার অভিনব উদ্যোগ

শ্যামাপূজা মানেই দ্বিতীয় শহর ধর্মনগরের আলোকোজ্জ্বল উৎসব। তবে শহরের জৌলুসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ত্রিপুরা-অসম সীমান্তের চুরাইবাড়ি এলাকাতেও দীর্ঘদিন ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে একাধিক আকর্ষণীয় শ্যামাপূজা। আর সেই পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম পরিচিত নাম সেবক সংঘ ক্লাব।

Pratibadi Kalam Newsroom2 মিনিট পড়া
স্মার্টফোনের গ্রাসে হারিয়ে যাচ্ছে শৈশব! চুরাইবাড়ির সেবক সংঘের ১৮তম শ্যামাপূজায় সমাজকে সচেতন করার অভিনব উদ্যোগ

শ্যামাপূজা মানেই দ্বিতীয় শহর ধর্মনগরের আলোকোজ্জ্বল উৎসব। তবে শহরের জৌলুসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ত্রিপুরা-অসম সীমান্তের চুরাইবাড়ি এলাকাতেও দীর্ঘদিন ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে একাধিক আকর্ষণীয় শ্যামাপূজা। আর সেই পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম পরিচিত নাম সেবক সংঘ ক্লাব।

প্রতিবছরের মতো এবারও শুধুমাত্র আলোকসজ্জা কিংবা চোখধাঁধানো মণ্ডপসজ্জায় সীমাবদ্ধ না থেকে, সমাজের জ্বলন্ত সমস্যাকে থিমের মাধ্যমে তুলে ধরতে প্রস্তুত ক্লাবটি। এবছর তাদের পুজো পদার্পণ করছে ১৮তম বর্ষে। সেবক সংঘ ক্লাবের সভাপতি রতন চন্দ জানান, ধর্মনগর শহরের পুজোর সঙ্গে পাল্লা দিয়েই দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা শ্যামাপূজার আয়োজন করে আসছেন। তবে তাঁদের পুজোর মূল আকর্ষণ বরাবরই সামাজিক সচেতনতামূলক বার্তা।

প্রতি বছরই সমকালীন সমাজের বিভিন্ন সমস্যা ও অবক্ষয়ের চিত্র থিমের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।বর্তমান সময়ে স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার কীভাবে শিশুদের শৈশব, কিশোরদের কৈশোর এবং তরুণদের তারুণ্যকে গ্রাস করছে, সেই উদ্বেগজনক বাস্তবতাই এবার মণ্ডপের মূল উপজীব্য। 'মোবাইলে হারিয়ে যাওয়া শৈশব' শীর্ষক থিমের মাধ্যমে স্মার্টফোনের অপব্যবহারের ভয়াবহ সামাজিক প্রভাব তুলে ধরতে চলেছে সেবক সংঘ।

প্রযুক্তির অন্ধ মোহে আগামী প্রজন্মের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা ও সামাজিক জীবনযাত্রা কীভাবে বিপন্ন হচ্ছে, সেই বার্তাই পৌঁছে দিতে চায় ক্লাব কর্তৃপক্ষ। তাদের বক্তব্য, সময় থাকতে এই প্রবণতার বিরুদ্ধে সচেতন না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।শুধু মণ্ডপের থিমেই নয়, সামাজিক সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে এবারও থাকছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।

নেশার বিরুদ্ধে এবং নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচির পাশাপাশি এবার পথনাটিকার মাধ্যমেও সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হবে। অর্থাৎ উৎসবের আনন্দের মধ্য দিয়েই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তা।উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সেবক সংঘ ক্লাব স্থানীয় শিল্পী ও প্রতিভাদের বিকাশের অন্যতম মঞ্চ হিসেবে কাজ করে আসছে।

এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকছে। পাশাপাশি চুরাইবাড়িতে প্রথমবারের মতো সেবক সংঘ ক্লাবের উদ্যোগে প্রকাশিত হতে চলেছে 'স্বরলিকা'। যা স্থানীয় সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।অন্যদিকে ক্লাবের উপদেষ্টা দীপঙ্কর দেবনাথ ও দিলীপ সরকার এবং সম্পাদক অসিত দে জানান, এবারের পুজো মণ্ডপ দর্শনার্থীদের জন্য টানা চার দিন উন্মুক্ত রাখা হবে।

তাঁদের দাবি, প্রতিবছরই স্থানীয় এলাকা ছাড়াও ধর্মনগর এবং অসমের পার্শ্ববর্তী শ্রীভূমি জেলা থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী সেবক সংঘের মণ্ডপে ভিড় জমান। দর্শনার্থীদের বিপুল সমাগমে অনেক সময় মণ্ডপের পরিসরও যেন ছোট হয়ে পড়ে।সব মিলিয়ে এবার চুরাইবাড়ির সেবক সংঘের ১৮তম শ্যামাপূজা শুধু উৎসবের আয়োজন নয়, বরং সমাজের প্রতি এক সচেতন প্রতিবাদের মঞ্চ হয়ে উঠতে চলেছে।

একদিকে স্মার্টফোনের আসক্তিতে হারিয়ে যাওয়া শৈশব ফেরানোর আহ্বান, অন্যদিকে নেশা ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার বার্তা-সব মিলিয়ে ধর্মনগরের পুজোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সীমান্ত এলাকায় দর্শনার্থীদের নজর কাড়তে প্রস্তুত সেবক সংঘ। এবার দেখার বিষয়, তাদের এই সামাজিক বার্তা দর্শনার্থীদের মনে কতটা দাগ কাটতে পারে।