বিরোধী জোটের জট কাটবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আগেই, আশাবাদী জিতেন্দ্র; পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র আক্রমণ
কই সঙ্গে তেলিয়ামুড়া-সহ বিভিন্ন স্থানে মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে অশান্তি, বিরোধী প্রার্থীদের উপর হামলা এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে সরাসরি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তাঁদের কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন বিরোধী দলনেতা।

আসন্ন পুর ও নগর সংস্থা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজেপি বিরোধী ভোটের বিভাজন রুখতে বিরোধী দলগুলির মধ্যে আসন সমঝোতার জট কাটছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করলেন বিরোধী দলনেতা তথা সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী। একই সঙ্গে তেলিয়ামুড়া-সহ বিভিন্ন স্থানে মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে অশান্তি, বিরোধী প্রার্থীদের উপর হামলা এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে সরাসরি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তাঁদের কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন বিরোধী দলনেতা।
জিতেন্দ্র চৌধুরী জানান, মনোনয়নপত্র দাখিলের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। তবে পাঁচটি নগর সংস্থা-সহ আরও কয়েকটি জায়গায় এক-দুটি ওয়ার্ডে মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সমস্যা তৈরি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের একাংশের সহযোগিতায় এই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত সাড়ে আট বছরের অভিজ্ঞতা রাজ্যের মানুষের কাছে অত্যন্ত তিক্ত বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিশেষ করে নগর এলাকাগুলিতে অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। এই অবস্থায় বিজেপি পুনরায় নগর সংস্থাগুলির দায়িত্ব পেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
বিজেপিকে পরাজিত করতে বিরোধী ভোট যাতে কোনওভাবেই বিভক্ত না হয়, তার জন্য শুরু থেকেই ঐক্যবদ্ধভাবে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তাব সিপিআই(এম)-এর পক্ষ থেকে রাখা হয়েছে বলে জানান জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর দাবি, তেলিয়ামুড়া, পানিসাগর ও সোনামুড়ার মতো কয়েকটি জায়গায় বিরোধী দলগুলির মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তবে এখনও বেশ কয়েকটি নগর সংস্থায় আসন সমঝোতা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। সিপিআই(এম)-এর বাইরের বিরোধী দলগুলির সঙ্গেও আলোচনা চলছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদী।
জিতেন্দ্র চৌধুরীর বক্তব্য, বিজেপিকে পরাজিত করা কোনও একটি রাজনৈতিক দলের স্বার্থের বিষয় নয়, বরং রাজ্যের গণতন্ত্র ও সামগ্রিক পরিস্থিতি রক্ষার প্রশ্ন। এই লক্ষ্য পূরণে বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি এবং সিপিআই(এম)-এর পক্ষ থেকে সমঝোতার ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ আন্তরিকতা রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এদিকে, তেলিয়ামুড়া মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রিটার্নিং অফিসারের ভূমিকা নিয়েও বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া জানান বিরোধী দলনেতা। সংশ্লিষ্ট এসডিএমের ভূমিকার সমালোচনা করে তাঁকে বিজেপির মণ্ডল নেতার সঙ্গে তুলনা করেন তিনি। পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের আইজি (আইনশৃঙ্খলা)-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
জিতেন্দ্র চৌধুরীর অভিযোগ, তেলিয়ামুড়ার ঘটনার বিষয়ে পুলিশকে জানানো হলেও তাঁদের দলের কর্মীরা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন। এক পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে তিনি নাকি মন্তব্য করেন, এসডিএম অফিসে তো সাধারণ মানুষের যাতায়াত থাকবেই, সেখানে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কাজ চলছে। তাহলে অযথা সাধারণ মানুষ সেখানে যাবেন কেন? পুলিশের এই ধরনের বক্তব্য ও ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, "পুলিশের একাংশ নপুংসক। তারা বিজেপির কাছে নিজেদের মেরুদণ্ড বিক্রি করে দিয়েছে।" মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহার আমলে পুলিশের একাংশ এভাবেই কাজ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। কিছু পুলিশ আধিকারিক নিজেদের ইচ্ছামতো ভূমিকা পালন করছেন বলেও দাবি তাঁর।
টাউন বড়দোয়ালি কেন্দ্রের প্রার্থী নির্বাচন নিয়েও কটাক্ষ করেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর অভিযোগ, ওই কেন্দ্রে ছাপ্পা ভোটের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ থাকা ব্যক্তিকেই প্রার্থী করা হয়েছে। তাঁকে কটাক্ষ করে 'সোনার টুকরো ছেলে' বলেও মন্তব্য করেন জিতেন্দ্র চৌধুরী।
সব মিলিয়ে, একদিকে বিরোধী দলগুলির মধ্যে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করার তৎপরতা, অন্যদিকে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় বাধা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ—এই দুই বিষয়কে সামনে রেখে পুর ও নগর সংস্থা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে।