ব্রেকিংরাজনীতি

পুরভোটের মুখে বিজেপি ছাড়লেন নিতীশ দে, রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা

বিজেপির ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির সদস্য নিতীশ দে বুধবার প্রকাশ্যে বিজেপি ত্যাগের ঘোষণা দিলেন। কৈলাসহরের ঊনকোটি কলাক্ষেত্রে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি শুধু বিজেপি ছাড়ার কথাই জানাননি, সক্রিয় রাজনীতি থেকেও চিরতরে অবসরের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তাঁর এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পুরভোটের আগে কৈলাসহরের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

Pratibadi Kalam Newsroom3 মিনিট পড়া
পুরভোটের মুখে বিজেপি ছাড়লেন নিতীশ দে, রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা

কৈলাসহর, ৪ নভেম্বর: কৈলাসহর পুর পরিষদের নির্বাচনের প্রাক্কালে বড়সড় ধাক্কা খেল বিজেপি। দীর্ঘদিনের পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ, পুর পরিষদের পাঁচবারের কাউন্সিলার তথা বিদায়ী ভাইস চেয়ারম্যান এবং বিজেপির ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির সদস্য নিতীশ দে বুধবার প্রকাশ্যে বিজেপি ত্যাগের ঘোষণা দিলেন। কৈলাসহরের ঊনকোটি কলাক্ষেত্রে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি শুধু বিজেপি ছাড়ার কথাই জানাননি, সক্রিয় রাজনীতি থেকেও চিরতরে অবসরের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তাঁর এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পুরভোটের আগে কৈলাসহরের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে নিতীশ দে বিশেষ করে স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রী টিংকু রায় এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে সরব হন। মন্ত্রীকে কৈলাসহরের বহিরাগত বলে উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, ১৯৭৮ সাল থেকে বহিরাগত নেতৃত্বের হাতেই কৈলাসহরের শাসনভার রয়েছে এবং এলাকার সম্পদ লুটেপুটে খাওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, বাম আমলে প্রাক্তন মন্ত্রী তথা চণ্ডীপুরের বিধায়ক তপন চক্রবর্তী এবং ২০২৩ সাল থেকে মন্ত্রী টিংকু রায়—এই দুই নেতৃত্বের আমলে কৈলাসহরের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। বরং তাঁদের কারণেই শহর ও এলাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

মন্ত্রী টিংকু রায়ের বিরুদ্ধে সরকারি ঠিকাদারি কাজে কোটি কোটি টাকার অবৈধ নিগো বাণিজ্যের অভিযোগও তোলেন নিতীশ দে। তাঁর দাবি, এই অনিয়মের বিষয়টি কৈলাসহরের মানুষের অজানা নয়। পাশাপাশি কৈলাসহর পুর পরিষদ এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে কমিশন বাণিজ্য ও অনিয়ম চলছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তবে সাংবাদিক সম্মেলনে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দলত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নিতীশ দে বলেন, বর্তমানে কৈলাসহরে পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি চলছে এবং সাধারণ দলীয় কর্মীদের কোনও মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির পুরনো ও ত্যাগী কর্মীদের উপেক্ষা করে একটি বিশেষ পরিবার এবং কয়েকজন ব্যক্তির একক সিদ্ধান্তেই দল পরিচালিত হচ্ছে। মণ্ডল সভাপতি থেকে শুরু করে স্থানীয় নেতৃত্ব—কারও মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। ২০১৮ সালে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের জন্য যাঁরা নিজেদের রক্ত-ঘাম ঝরিয়েছিলেন, আজ তাঁদের অবদান সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে বলেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের গত পাঁচ বছরকে সবচেয়ে কঠিন সময় হিসেবে উল্লেখ করে নিতীশ দে জানান, দলের অভ্যন্তরে তাঁকে নানা অপবাদ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের শিকার হতে হয়েছে। বিষয়গুলি বারবার দলীয় নেতৃত্বের নজরে আনলেও কোনও বিচার বা সমাধান মেলেনি বলে তাঁর অভিযোগ। দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দলের কাজ করার পরও আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে রাজনীতি চালিয়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট করেন তিনি।

এদিন আবেগঘন কণ্ঠে নিতীশ দে বলেন, তিনি আর কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হবেন না এবং সক্রিয় রাজনীতি থেকে চিরতরে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর কথায়, প্রয়োজনে আগামী দিন থেকে রাস্তার পাশে সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করবেন, তবুও আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে রাজনীতি করবেন না।

শেষে বিজেপির বর্তমান নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, দলের প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শ ও নীতিবোধ আজ কার্যত বিসর্জিত হয়েছে। পুরভোটের ঠিক আগে পাঁচবারের কাউন্সিলার ও বিদায়ী ভাইস চেয়ারম্যানের এই দলত্যাগ এবং রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা কৈলাসহরের রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।