রাজনীতি

পুর ভোটের আগে আগরতলা কাঁপাল বিজেপি! ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ পদযাত্রায় বিরোধীদের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কার

পুর ভোটে আগরতলায় যেন কেন্দ্রীয় মিছিলটি সেরেই নিল বিজেপি। আর সেই আবহেই শনিবার রাজধানীর রাজপথে কার্যত নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির প্রদর্শন করল শাসক দল। ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে বিজেপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে এদিন সরগরম হয়ে উঠল আগরতলা। দলীয় পতাকা, স্লোগান আর কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে মিছিলের রাজনৈতিক বার্তা ছিল স্পষ্ট, পুর নির্বাচনের আগে রাজপথের লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে চায় শাসক দল।

Pratibadi Kalam Newsroom2 মিনিট পড়া
পুর ভোটের আগে আগরতলা কাঁপাল বিজেপি! ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ পদযাত্রায় বিরোধীদের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কার

আগরতলা:: পুর ভোটে আগরতলায় যেন কেন্দ্রীয় মিছিলটি সেরেই নিল বিজেপি। আর সেই আবহেই শনিবার রাজধানীর রাজপথে কার্যত নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির প্রদর্শন করল শাসক দল। ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে বিজেপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে এদিন সরগরম হয়ে উঠল আগরতলা। দলীয় পতাকা, স্লোগান আর কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে মিছিলের রাজনৈতিক বার্তা ছিল স্পষ্ট, পুর নির্বাচনের আগে রাজপথের লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে চায় শাসক দল।

শুরু থেকেই মিছিলের আবহে ছিল রাজনৈতিক উত্তাপ। মিছিলের সামনে নেতৃত্বে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ড.) মানিক সাহা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের অন্যান্য নেতৃত্ব ও কর্মী-সমর্থকরা। মিছিল এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে উঠে আসে গণতন্ত্র রক্ষা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির মর্যাদা এবং রাজনৈতিক হিংসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের স্লোগান। আগরতলার রাজনৈতিক মহলে এমনিতেই পুর নির্বাচনকে ঘিরে তৎপরতা তুঙ্গে। তার মধ্যে একদিন আগে বিরোধী জোটের কর্মসূচির পর বিজেপির এই পদযাত্রা রাজধানীর রাজনৈতিক লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করল।

পদযাত্রা শেষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার অধ্যাপক মানিক সাহা বিরোধীদের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানান। তাঁর কথায়, অশান্তি, হিংসা কিংবা গায়ের জোরে সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা কখনও গণতন্ত্রের পরিচয় হতে পারে না। গণতন্ত্রে শেষ কথা বলবে জনগণ, আর সেই সিদ্ধান্ত আসবে ভোটের মাধ্যমে। বাবাসাহেব আম্বেদকরের প্রণীত সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।এদিন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের বড় অংশজুড়েই ছিল কংগ্রেস, সিপিআইএম এবং ইন্ডিয়া জোটের সমালোচনা। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিরোধীরা বিভিন্ন সময়ে সুপ্রিম কোর্ট ও নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে অভিযোগ তোলার নামে সাধারণ মানুষের মনে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি অবিশ্বাস তৈরি করা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়েও বিরোধীদের অবস্থানকে কাঠগড়ায় তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সময়ের সঙ্গে বহু ভোটারের মৃত্যু হয়েছে, অনেকে অন্যত্র চলে গিয়েছেন। তাই ভোটার তালিকা নির্ভুল ও হালনাগাদ রাখা অত্যন্ত জরুরি। যোগ্য ভোটারদের নাম নিশ্চিত করা এবং ভোটার থাকার যোগ্য নন এমন ব্যক্তিদের নাম যাচাই করার জন্যই এই প্রক্রিয়া। অথচ কংগ্রেস, সিপিআইএম ও তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিক স্বার্থে এর বিরোধিতা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে বলেও দাবি করেন মানিক সাহা। একই সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের ঘরে ঘরে গিয়ে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার আহ্বান জানান। তবে শনিবারের কর্মসূচির রাজনৈতিক তাৎপর্য শুধু বিরোধীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকল না।

সামনে আগরতলা পুর নিগমের নির্বাচন। তার আগে রাজধানীর রাজপথে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বিজেপির এই পদযাত্রা কার্যত নির্বাচনী প্রস্তুতিরও একটি প্রকাশ্য বার্তা। একদিকে বিরোধীদের পাল্টা রাজনৈতিক কর্মসূচি, অন্যদিকে শাসক দলের রাজপথে শক্তি প্রদর্শন, সব মিলিয়ে পুর ভোটের দামামা যে বেজে উঠেছে, শনিবারের আগরতলা তারই সাক্ষী থাকল। এখন দেখার, রাজপথের এই রাজনৈতিক উপস্থিতি আগামী দিনে ভোটের প্রচার ও জনসংযোগের লড়াইয়ে কতটা প্রতিফলিত হয়।