তেলিয়ামুড়ায় তিন ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পথে বিজেপি, স্ক্রুটিনির অপেক্ষা
১৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে তিনটিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে শাসকদল বিজেপির সামনে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট তিনটি ওয়ার্ডে বিজেপি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিরোধী শিবিরের কোনও প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি

তেলিয়ামুড়া পুর পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। এরই মধ্যে ১৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে তিনটিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে শাসকদল বিজেপির সামনে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট তিনটি ওয়ার্ডে বিজেপি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিরোধী শিবিরের কোনও প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে মনোনয়নপত্রের স্ক্রুটিনি ও পরবর্তী নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পথে থাকা বিজেপির তিন প্রার্থী হলেন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মালাশ্রী সাহাপাল, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন পুরপিতা রূপক সরকার এবং ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের রবীন্দ্র সরকার। শুক্রবার তেলিয়ামুড়া মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। কিন্তু এই তিনটি ওয়ার্ডে অন্য কোনও দলের প্রার্থী মনোনয়ন জমা না দেওয়ায় আপাতত প্রতিদ্বন্দ্বীহীন অবস্থানে রয়েছেন বিজেপি প্রার্থীরা।
বিশেষ করে ৭ নম্বর ওয়ার্ডকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বাড়তি আলোচনা শুরু হয়েছে। এই ওয়ার্ডে বিজেপির মনোনীত প্রার্থী তথা প্রাক্তন পুরপিতা রূপক সরকারের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত বিরোধী শিবিরের কেউ মনোনয়ন জমা দেননি। ফলে তাঁর নির্বাচনী লড়াই কার্যত প্রতিদ্বন্দ্বীহীন হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ওয়ার্ডে বিরোধীদের প্রার্থী দিতে না পারার বিষয়টি তেলিয়ামুড়ার পুর নির্বাচনের সমীকরণে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
তবে তিনটি ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, শাসকদলের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাপ সৃষ্টির কারণেই সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলিতে বিরোধী প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতে পারেননি। অন্যদিকে, বিরোধীদের এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করেছে বিজেপি। শাসকদলের পাল্টা দাবি, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো উপযুক্ত প্রার্থী খুঁজে না পাওয়ার কারণেই বিরোধীরা ওই তিনটি ওয়ার্ডে প্রার্থী দিতে পারেনি।
সব মিলিয়ে ১৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে তিনটিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের সম্ভাবনা বিজেপির নির্বাচনী অবস্থানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে মনোনয়নপত্রের স্ক্রুটিনি শেষে পরিস্থিতি কী দাঁড়ায় এবং বাকি ১২টি ওয়ার্ডে বিরোধীরা কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।