জিরানিয়ায় প্রার্থী সংকটে বামফ্রন্ট, জনভিত্তি হারিয়েছে বিরোধীরা: সুশান্ত চৌধুরী
জিরানিয়া মহকুমায় বামফ্রন্টের সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং জনসমর্থনের অভাব নিয়ে সরব হলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা মোহনপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সুশান্ত চৌধুরী। তাঁর দাবি, জিরানিয়ায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো প্রার্থীও খুঁজে পাচ্ছে না বামফ্রন্ট।

আগরতলা, ৭ নভেম্বর।। আসন্ন পুর নির্বাচনকে সামনে রেখে জিরানিয়া মহকুমায় বামফ্রন্টের সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং জনসমর্থনের অভাব নিয়ে সরব হলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা মোহনপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সুশান্ত চৌধুরী। তাঁর দাবি, জিরানিয়ায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো প্রার্থীও খুঁজে পাচ্ছে না বামফ্রন্ট। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকাকালীন সাধারণ মানুষের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ এবং হিংসা-সন্ত্রাসের রাজনীতির কারণেই ২০১৮ সালের পর থেকে বামফ্রন্টের উপর থেকে মানুষের আস্থা কমেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুশান্ত চৌধুরী বলেন, জিরানিয়া মহকুমায় বামফ্রন্টের সাংগঠনিক পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, প্রার্থী হওয়া তো দূরের কথা, প্রার্থীর প্রস্তাবক হতেও কেউ আগ্রহ দেখাননি। মোহনপুর, শান্তিরবাজার, কমলপুর, রানীরবাজার ও জিরানিয়ার মতো এলাকায় বিরোধীদের প্রার্থী দিতে না পারার বিষয়টিকে তাদের জনভিত্তির দুর্বলতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
আসন্ন পুর নির্বাচন বিজেপির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তাঁর কথায়, পঞ্চায়েত, নগর পঞ্চায়েত, পুর পরিষদ থেকে শুরু করে আগরতলা পুরনিগম—প্রতিটি স্তরের নির্বাচনই সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও স্থানীয় উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত। বিগত দিনে রাজ্য সরকার ও পুর সংস্থাগুলির মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া উন্নয়নমূলক কাজের ভিত্তিতে প্রতিটি আরবান লোকাল বডিতে বিজেপি ভালো ফল করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের সম্ভাব্য নির্বাচনী জোট নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি সুশান্ত চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, ইন্ডিয়া ব্লকের কোনও সুস্পষ্ট রাজনৈতিক কর্মসূচি বা জনস্বার্থকেন্দ্রিক এজেন্ডা নেই। ক্ষমতার পরিবর্তনই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। এমনকি বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়েও যথেষ্ট সমন্বয়ের অভাব রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। একদিকে একটি পক্ষ প্রার্থী ঘোষণা করছে, অন্যদিকে অপর পক্ষের বক্তব্য, তাদের সঙ্গে কোনও আলোচনাই হয়নি। এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানের ফলে জোটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, আসন্ন নির্বাচনে ইন্ডিয়া ব্লকের জোটকে মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে।
এদিকে, আগরতলা পুরনিগমের আগামী দিনের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে সুশান্ত চৌধুরী জানান, নির্বাচনের আগে বিজেপির পক্ষ থেকে বিস্তারিত নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করা হবে। অসমাপ্ত উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি নতুন প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনাও তাতে স্থান পাবে। রাজধানীর সৌন্দর্যায়ন, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, পানীয় জল সরবরাহ, বিদ্যুৎ পরিষেবা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়নকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, বিগত পুর বোর্ডের কাজ ও উন্নয়নের খতিয়ান সামনে রেখেই আগামী নির্বাচনে মানুষের কাছে যাবে বিজেপি। তবে আগরতলা পুরনিগমের আগামী দিনের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী ইস্তাহারের মাধ্যমেই প্রকাশ করা হবে।