ব্রেকিংরাজনীতি

খয়েরপুর ও কমলপুরের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়, জড়িতদের রেহাই দেওয়া হবে না : মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা

পুরভোটে বিরোধীদের মনোনয়ন জমায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী, প্রার্থী তালিকা ঘোষণার অপেক্ষায় বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক।আসন্ন আগরতলা পুরনিগম-সহ রাজ্যের পুরপরিষদ ও নগর পঞ্চায়েত নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই খয়েরপুর ও কমলপুরের ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা।

Pratibadi Kalam Newsroom3 মিনিট পড়া
পুরভোটে বিরোধীদের মনোনয়ন জমায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী, প্রার্থী তালিকা ঘোষণার অপেক্ষায় বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক।আসন্ন আগরতলা পুরনিগম-সহ রাজ্যের পুরপরিষদ ও নগর পঞ্চায়েত নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই খয়েরপুর ও কমলপুরের ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা।

আগরতলা:: পুরভোটে বিরোধীদের মনোনয়ন জমায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী, প্রার্থী তালিকা ঘোষণার অপেক্ষায় বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক।আসন্ন আগরতলা পুরনিগম-সহ রাজ্যের পুরপরিষদ ও নগর পঞ্চায়েত নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই খয়েরপুর ও কমলপুরের ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা।

ঘটনার যথাযথ তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষে সওয়াল করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, দলের কেউ এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলে তাঁকে কোনো অবস্থাতেই রেহাই দেওয়া হবে না। শনিবার আগরতলায় বিজেপির প্রদেশ কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দিতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, খয়েরপুরের ঘটনার বিষয়টি তিনি সংবাদপত্রে দেখেছেন।

ঘটনাটি কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়া যায় না। অভিযোগ সত্যি হলে যথাযথ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘খয়েরপুরের ঘটনাটা কোনো অবস্থায় মানা যায় না। যদি প্রকৃত অর্থে এরকম হয়ে থাকে, তাহলে যথাযথ তদন্ত হোক এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

পাশাপাশি কমলপুরের ঘটনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কমলপুরের ঘটনাও কাম্য নয়। তবে ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ এখনও তাঁর কাছে নেই। বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত খোঁজখবর নেবেন।এই প্রসঙ্গে দলের অবস্থান স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বারবার বলছি, আমাদের দলের কেউ যদি এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে তাকে কোনো অবস্থাতেই রেহাই দেওয়া হবে না।’অন্যদিকে, আসন্ন পুর নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। বিশেষ করে রামনগরে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় দুষ্কৃতীরা ঘেরাও করে রাখায় সিপিআইএম প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই অভিযোগের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিরোধীরা অভিযোগ করতেই পারে। তবে বিজেপির পক্ষ থেকে বারবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কাউকে যেন বাধা দেওয়া না হয়।একই সঙ্গে অতীতে বাম আমলে রাজনৈতিক বাধাদানের অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি চলেছে। ফলে অনেককে বোঝানোর পরেও পুরোনো অভিজ্ঞতার কারণে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ থেকে যাচ্ছে। তবে সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাই তুলে ধরেন তিনি।

এদিকে, পুর নির্বাচনকে সামনে রেখে শনিবার বিজেপির প্রদেশ কার্যালয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দলের পদাধিকারীদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।তিনি বলেন, নতুন প্রদেশ প্রভারীর উদ্যোগে এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পরামর্শ অনুযায়ী দলের পদাধিকারীদের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় বজায় রাখার লক্ষ্যে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।উল্লেখ্য, আসন্ন পুর নির্বাচনের জন্য বিজেপি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেনি।

প্রার্থী বাছাইয়ের প্রস্তুতি এগিয়ে থাকলেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে দল। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে প্রদেশ কার্যালয়ের বৈঠক রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।একদিকে খয়েরপুর ও কমলপুরের ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর বার্তা, অন্যদিকে বিরোধীদের মনোনয়ন জমায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ এবং বিজেপির প্রার্থী তালিকা ঘোষণা নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে পুরভোটের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই সরগরম হয়ে উঠছে।