ব্রেকিংরাজনীতি

কংগ্রেসে আশীষের বিদায়ঘণ্টা, পুরনো সভাপতির চেয়ারে ফিরছেন সুদীপ?

ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি পদে পরিবর্তন ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। বর্তমান সভাপতি আশীষ কুমার সাহার মেয়াদ শেষের মুখে। তাঁর উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে দলের অন্দরে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। আর সেই আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উঠে আসছে প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি তথা বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মনের নাম।

Pratibadi Kalam Newsroom3 মিনিট পড়া
কংগ্রেসে আশীষের বিদায়ঘণ্টা, পুরনো সভাপতির চেয়ারে ফিরছেন সুদীপ?

ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি পদে পরিবর্তন ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। বর্তমান সভাপতি আশীষ কুমার সাহার মেয়াদ শেষের মুখে। তাঁর উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে দলের অন্দরে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। আর সেই আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উঠে আসছে প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি তথা বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মনের নাম।

২০২৩ সালের ১৭ জুন তৎকালীন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বীরজিৎ সিনহাকে সরিয়ে আশীষ কুমার সাহাকে ওই পদে বসানো হয়েছিল। সেই সময় থেকেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ছিল, নেতৃত্ব পরিবর্তনের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন সুদীপ রায় বর্মন। রাজনৈতিক সমীকরণের পাশাপাশি আশীষ ও সুদীপের ব্যক্তিগত বন্ধুত্বও এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল বলে দলের অন্দরে চর্চা ছিল। এবার সেই বন্ধুত্বের সমীকরণই কি ফের প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে, তা নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।

সর্বভারতীয় স্তরে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা বাড়লেও ত্রিপুরায় দল এখনও প্রত্যাশিত শক্তি নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। আশীষ কুমার সাহার নেতৃত্বে তিন বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বুথ থেকে ব্লক, জেলা থেকে প্রদেশ—সাংগঠনিক ভিত কতটা মজবুত হয়েছে, তা নিয়ে দলের অভ্যন্তরেই প্রশ্ন রয়েছে। বিভিন্ন স্তরে সংগঠনকে সক্রিয় করার ক্ষেত্রে নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষের কথাও শোনা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সভাপতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা সামনে আসায় নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে।

আশীষ সাহার সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে প্রথমদিকে উঠে এসেছিল বিধায়ক বীরজিৎ সিনহা এবং বিধায়ক গোপাল চন্দ্র রায়ের নাম। দু’জনেই অতীতে প্রদেশ কংগ্রেসের শীর্ষ দায়িত্ব সামলেছেন। বীরজিৎ সিনহার সমর্থকদের যুক্তি, তাঁর নেতৃত্বে একসময় বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস তুলনামূলক ভালো ফল করেছিল। পাশাপাশি সর্বভারতীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর পরিচিতি ও যোগাযোগও যথেষ্ট পুরনো। অন্যদিকে, গোপাল চন্দ্র রায়েরও দিল্লির প্রবীণ কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। দলের একাংশের মতে, অভিজ্ঞতা ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের বিচারে এই দুই নেতার কাউকেই উপেক্ষা করা সহজ হবে না।

তবে সভাপতি পদে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শুধু অভিজ্ঞতা নয়, দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার সমীকরণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বীরজিৎ সিনহা বা গোপাল চন্দ্র রায়ের মধ্যে কেউ দায়িত্ব পেলে প্রদেশ কংগ্রেসের বর্তমান ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তাতে দলের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কতটা ঝুঁকি নিতে চাইবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

এই সমীকরণের মধ্যেই ফের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন সুদীপ রায় বর্মন। বর্তমানে তিনি কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির আমন্ত্রিত সদস্য। দলীয় সূত্রের দাবি, আশীষ কুমার সাহা পরবর্তী সভাপতি হিসেবে সুদীপের নাম প্রস্তাব করেছেন। বিদায়ী সভাপতির মতামত এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কতটা গুরুত্ব পাবে, সেটিও এখন আলোচনার বিষয়। কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, পরবর্তী সভাপতি হওয়ার বিষয়ে সুদীপ রায় বর্মনের আগ্রহের কথাও দিল্লির নেতৃত্বের কাছে পৌঁছেছে। যদিও এই বিষয়ে সুদীপ বর্মন কিংবা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে আসেনি।

সুদীপ রায় বর্মন এর আগেও প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন। সংগঠন পরিচালনা, কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। একসময় কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া, বিজেপি সরকারের মন্ত্রিত্ব ছেড়ে ফের কংগ্রেসে ফিরে আসা—তাঁর রাজনৈতিক পথচলায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বাঁক রয়েছে। ফলে তাঁর সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক পরিচিতিকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কতটা গুরুত্ব দেয়, সেটাই এখন দেখার।

তবে সুদীপের প্রত্যাবর্তন শুধু নেতৃত্বের পরিবর্তন নয়, দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার সমীকরণেও নতুন বার্তা দিতে পারে। অন্যদিকে, বীরজিৎ সিনহা ও গোপাল চন্দ্র রায়ের মতো অভিজ্ঞ নেতাদের সম্ভাব্য ভূমিকাও পুরোপুরি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তাঁদের উপস্থিতি দলের মধ্যে নতুন কোনও গোষ্ঠীগত সমীকরণ তৈরি করবে কি না, সেই প্রশ্নও রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ২০২৩ সালে আশীষ কুমার সাহাকে সভাপতি করার সময় যে রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করেছিল, ২০২৬ সালে এসে তারই পুনরাবৃত্তির ইঙ্গিত মিলছে। তবে এবার সেই সমীকরণের কেন্দ্রে রয়েছেন আশীষের ঘনিষ্ঠ সুদীপ রায় বর্মন। বন্ধুত্বের সূত্রে দায়িত্ব হস্তান্তর, নাকি অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচন—শেষ পর্যন্ত কোন হিসাবকে প্রাধান্য দেবে কংগ্রেস হাইকম্যান্ড, তার উত্তর মিলবে দিল্লির সিদ্ধান্তেই।