ব্রেকিংপ্রথম পাতা

মানবিকতার নজির আগরতলায়! টাকা হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়া ছাত্রীর পাশে দাঁড়ালেন বাস শ্রমিক ও মালিকপক্ষ

অমরপুরের বাসিন্দা দরিদ্র পরিবারের ছাত্রী মিনা জমাতিয়া পশ্চিমবঙ্গের কাজী নজরুল ইসলাম কলেজে সেমিস্টার ফি জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আগরতলার নাগেরজলা বাসস্ট্যান্ডে আসছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিল প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ টাকা।

Pratibadi Kalam Newsroom2 মিনিট পড়া
মানবিকতার নজির আগরতলায়! টাকা হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়া ছাত্রীর পাশে দাঁড়ালেন বাস শ্রমিক ও মালিকপক্ষ

দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন এক ছাত্রীর। সেই স্বপ্ন পূরণে নিজের বাড়ির হাঁস-মুরগি বিক্রি করে জোগাড় করেছিলেন কলেজের সেমিস্টার ফি। কিন্তু আগরতলায় আসার পথেই হারিয়ে যায় তাঁর ব্যাগে রাখা সমস্ত টাকা। মুহূর্তের মধ্যেই যেন অন্ধকার নেমে আসে মিনা জমাতিয়ার জীবনে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, অমরপুরের বাসিন্দা দরিদ্র পরিবারের ছাত্রী মিনা জমাতিয়া পশ্চিমবঙ্গের কাজী নজরুল ইসলাম কলেজে সেমিস্টার ফি জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আগরতলার নাগেরজলা বাসস্ট্যান্ডে আসছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিল প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ টাকা। এর মধ্যে ১৫ হাজার ৫০০ টাকা ছিল কলেজের সেমিস্টার ফি। আগরতলা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বাসের কন্ডাক্টর ভাড়া চাইলে তিনি ব্যাগ খুলে ভাড়া দেন। কিন্তু নাগেরজলা বাসস্ট্যান্ডে নামার পর ব্যাগ খুলে দেখেন, টাকার ব্যাগটি আর নেই।

নিজের কষ্টে জমানো টাকা হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মিনা। কারণ, এই টাকা জোগাড় করতে তাঁকে নিজের বাড়ির হাঁস-মুরগি পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছিল। কলেজের ফি কীভাবে জমা দেবেন, সেই চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি।

পরবর্তীতে নাগেরজলা বাসস্ট্যান্ডের শ্রমিক ও মালিকপক্ষের নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেন মিনা। তাঁর অসহায় পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে এক অনন্য মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন বাসস্ট্যান্ডের শ্রমিক ও মালিকপক্ষ। নিজেদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে অর্থ সংগ্রহ করে মিনার হাতে তুলে দেন তাঁর কলেজের পরীক্ষার ফি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের টাকা।

এই ঘটনায় আরও একবার প্রমাণিত হলো, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বড় পরিচয় কিংবা বড় পদমর্যাদার প্রয়োজন হয় না, প্রয়োজন শুধু একটি মানবিক মন।

আগরতলার নাগেরজলা বাসস্ট্যান্ডে বাস শ্রমিক ও মালিকপক্ষের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। মানবিকতার এই নজির সমাজের কাছে এক সুন্দর বার্তা রেখে গেল।