ব্রেকিংপ্রথম পাতা

পুরভোটে ২৩ জন অবজারভার, রিজার্ভে আরও ৫; নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কড়া নজরদারির নির্দেশ কমিশনের

রাজ্য নির্বাচন কমিশনার জানান, নির্বাচনী অবজারভাররা মূলত নির্বাচন কমিশনের চোখ ও কান হিসেবে কাজ করবেন। মনোনয়নপত্র জমা, স্ক্রুটিনি, প্রার্থীদের তালিকা পরীক্ষা, নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর তাঁদের নিবিড় নজরদারি থাকবে। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি প্রত্যেক অবজারভারকে তাঁদের অধীনস্থ পুলিশ স্টেশনগুলি পরিদর্শন করে পরিস্থিতি সম্পর্কে কমিশনের কাছে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

Pratibadi Kalam Newsroom2 মিনিট পড়া
পুরভোটে ২৩ জন অবজারভার, রিজার্ভে আরও ৫; নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কড়া নজরদারির নির্দেশ কমিশনের

আসন্ন পুর ও নগর সংস্থা নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের বিশেষ দায়িত্ব ও নির্দেশিকা দিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার আগরতলার রাজ্য অতিথিশালায় ২৩ জন নির্বাচনী অবজারভারকে নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি আরও পাঁচজন অবজারভারকে রিজার্ভে রাখা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার পি কে চক্রবর্তী এবং কমিশনের সচিব অনুরাগ সেন।

বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার জানান, নির্বাচনী অবজারভাররা মূলত নির্বাচন কমিশনের চোখ ও কান হিসেবে কাজ করবেন। মনোনয়নপত্র জমা, স্ক্রুটিনি, প্রার্থীদের তালিকা পরীক্ষা, নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর তাঁদের নিবিড় নজরদারি থাকবে। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি প্রত্যেক অবজারভারকে তাঁদের অধীনস্থ পুলিশ স্টেশনগুলি পরিদর্শন করে পরিস্থিতি সম্পর্কে কমিশনের কাছে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

কোথাও নির্বাচনী বিধিভঙ্গ, হিংসা কিংবা কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার বিস্তারিত বিবরণও কমিশনকে জানাতে হবে। ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত অবজারভারদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। গণনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁদের চূড়ান্ত রিপোর্ট কমিশনের কাছে জমা দিতে হবে বলেও জানান পি কে চক্রবর্তী।

এদিন পুর ও নগর সংস্থা নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বৈধতা নিয়েও কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। রাজ্য নির্বাচন কমিশনার জানান, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনও আইন বা বিধি লঙ্ঘন করা হচ্ছে না। প্রচলিত আইন এবং নির্ধারিত নির্বাচনী বিধি মেনেই এই প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে। এর আগেও স্থানীয় সংস্থার নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, মোহনপুর-সহ কয়েকটি স্থানে বিরোধী দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে কমিশনার জানান, বিরোধীদের তরফে মৌখিকভাবে বিষয়টি কমিশনকে জানানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগের বিষয়েও কমিশন অবগত রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।

পি কে চক্রবর্তীর বক্তব্য, মনোনয়নপত্র গ্রহণের জন্য রিটার্নিং অফিসারদের দপ্তরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের কাছ থেকেও কোনও প্রার্থীকে মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দেওয়া বা মারধরের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। রিটার্নিং অফিসার এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বিরোধীদের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে কমিশন।

নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের আবহে কমিশনের এই নির্দেশিকার মাধ্যমে মনোনয়ন পর্ব থেকে ভোট গণনা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নজরদারি বজায় রাখার কথা স্পষ্ট করা হয়েছে।