পাঁচ পুর পরিষদে ৬৫ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের দাবি রতন লাল নাথের, বিজেপি কর্মীদের বিরোধী ভূমিকার প্রশিক্ষণের প্রস্তাব
আসন্ন পুর ও নগর সংস্থা নির্বাচনে বিরোধীদের সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরলেন মন্ত্রী রতন লাল নাথ। তাঁর দাবি, মোহনপুর, জিরানিয়া, রানিরবাজার, শান্তিরবাজার ও কমলপুর—এই পাঁচটি পুর পরিষদ ও নগর পঞ্চায়েতের মোট ৬৫টি আসনে বিরোধী দলের কোনও প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি।

আগরতলা।। আসন্ন পুর ও নগর সংস্থা নির্বাচনে বিরোধীদের সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরলেন মন্ত্রী রতন লাল নাথ। তাঁর দাবি, মোহনপুর, জিরানিয়া, রানিরবাজার, শান্তিরবাজার ও কমলপুর—এই পাঁচটি পুর পরিষদ ও নগর পঞ্চায়েতের মোট ৬৫টি আসনে বিরোধী দলের কোনও প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি। ফলে ওই আসনগুলিতে বিজেপি ও এনডিএ জোটের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হতে চলেছেন।
মন্ত্রী জানান, রাজ্যের মোট ২১টি পুর ও নগর সংস্থার ৩৪৫টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়েছে। বর্তমানে মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। আগামী ১০ নভেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন।
অন্যদিকে, মোহনপুর ও জিরানিয়ায় বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়ার সিপিআইএমের অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দেন রতন লাল নাথ। তাঁর দাবি, বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিকেই বিরোধীরা বাধা হিসেবে তুলে ধরছে। মনোনয়ন জমার শেষ দিন তিনি নিজেও বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন বলে জানান। বিরোধীদের অভিযোগকে মিথ্যাচার বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
মন্ত্রী আরও দাবি করেন, প্রয়োজনীয় প্রার্থী ও প্রস্তাবকের অভাবেই বিরোধীরা কয়েকটি আসনে প্রার্থী দিতে পারেনি। তাঁর মতে, রাজ্যে বিরোধী দলগুলির রাজনৈতিক জনভিত্তি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে।
এদিকে, বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী সমঝোতা প্রসঙ্গে রতন লাল নাথ জানান, রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থেই এই সমঝোতা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য, ত্রিপুরামথা, বিজেপি ও আইপিএফটি যৌথভাবে নির্বাচনী সমীকরণ তৈরি করছে।
তবে মন্ত্রীর বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক উঠে আসে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পর পুর পরিষদগুলিতে কার্যকর বিরোধী দলের অনুপস্থিতির প্রসঙ্গে। তিনি স্বীকার করেন, কয়েকটি পুর সংস্থায় বিরোধী দলের কার্যকর উপস্থিতি নাও থাকতে পারে। এই পরিস্থিতিতে তাঁর প্রস্তাব, যেসব পুর সংস্থায় বিরোধী দল থাকবে না, সেখানে বিজেপির তিন থেকে চারজন নির্বাচিত সদস্যকে বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের জন্য চিহ্নিত করা যেতে পারে। এমনকি গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা কীভাবে পালন করতে হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিজেপি সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাবও দেন তিনি।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় নিয়ে বিরোধীদের সাংগঠনিক দুর্বলতাকে দায়ী করার পাশাপাশি বিজেপি সদস্যদের বিরোধী দলের ভূমিকা পালনে প্রশিক্ষণ দেওয়ার এই প্রস্তাব ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।