কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে জলকর মকুব, কমানো হবে অন্যান্য পুরকর: প্রতিশ্রুতি বিধায়ক বিরজিত সিনহার
কৈলাশহর পুর পরিষদের ক্ষমতায় কংগ্রেস এলে শহরবাসীকে আর দিতে হবে না পানীয় জলের কর। পাশাপাশি সম্পত্তি কর-সহ পুর পরিষদের অন্যান্য করের বোঝাও শহরবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। শুক্রবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনই একাধিক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিলেন কৈলাশহরের বিধায়ক বিরজিত সিনহা।

কৈলাশহর।। কৈলাশহর পুর পরিষদের ক্ষমতায় কংগ্রেস এলে শহরবাসীকে আর দিতে হবে না পানীয় জলের কর। পাশাপাশি সম্পত্তি কর-সহ পুর পরিষদের অন্যান্য করের বোঝাও শহরবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। শুক্রবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনই একাধিক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিলেন কৈলাশহরের বিধায়ক বিরজিত সিনহা।
বিধায়ক জানান, কৈলাশহর বিধানসভা কেন্দ্রের পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত, গৌরনগর পঞ্চায়েত সমিতি এবং সদ্য অনুষ্ঠিত ভিলেজ কমিটি নির্বাচনেও এলাকার মানুষ কংগ্রেসের উপর আস্থা রেখেছেন বলে তাঁদের বিশ্বাস। এবার কৈলাশহর পুর পরিষদের দায়িত্ব পেলে শহরের সামগ্রিক উন্নয়নে একাধিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শহরের দীর্ঘদিনের জল নিষ্কাশন সমস্যা সমাধানে গোটা শহরজুড়ে বড় আকারের কভার ড্রেন নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বিজেপি পরিচালিত পুর পরিষদের আমলে বিভিন্ন কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন বিরজিত সিনহা। তিনি জানান, কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে প্রচলিত কর কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা হবে। সম্পত্তি কর-সহ বিভিন্ন পুরকর শহরবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে পানীয় জলের উপর আরোপিত কর সম্পূর্ণ মকুব করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। পুর পরিষদ পরিচালনায় বিজেপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ ও জনদুর্ভোগের অভিযোগ তুলে এসব বিষয়কে সামনে রেখেই কংগ্রেস নির্বাচনে মানুষের কাছে ভোট চাইবে বলেও জানান বিধায়ক।
এদিন শুক্রবার দুপুরে বিধায়ক বিরজিত সিনহার বাসভবনের সামনে থেকে কংগ্রেস প্রার্থীদের নিয়ে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল বের হয়। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতিতে মিছিলটি শহরের বিভিন্ন রাজপথ পরিক্রমা করে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পৌঁছায়। সেখানে কৈলাশহর পুর পরিষদের ১৭টি ওয়ার্ডের কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থীরা তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। মিছিলে বিধায়ক বিরজিত সিনহা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঊনকোটি জেলা কংগ্রেস সভাপতি মোহাম্মদ বদরুজ্জামান, কংগ্রেস নেতা রুদ্রেন্দু ভট্টাচার্য, রুনু মিয়া, আশীষ সেনগুপ্ত-সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।
কৈলাশহর পুর পরিষদের ১৭টি ওয়ার্ডে কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থীরা হলেন— ১ নম্বর ওয়ার্ডে রঞ্জিতা মালাকার, ২ নম্বরে তাপসী রায় দত্ত, ৩ নম্বরে সাহিন আলী, ৪ নম্বরে শ্যামলী সরকার, ৫ নম্বরে সুচিতা শব্দকর, ৬ নম্বরে বিউটি পাল, ৭ নম্বরে সাধনা মালাকার, ৮ নম্বরে অঞ্জন চক্রবর্তী, ৯ নম্বরে নর সিংহ দাস, ১০ নম্বরে গৌতম দাস, ১১ নম্বরে জহির মিয়া, ১২ নম্বরে সুজলা দাস দে, ১৩ নম্বরে মনিকা সিংহ, ১৪ নম্বরে মনিকা দাস, ১৫ নম্বরে দিলীপ দাস, ১৬ নম্বরে সুমিতা ঘোষ গোপ এবং ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে চন্দ্রশেখর সিনহা।
উল্লেখ্য, ১৭টি আসনবিশিষ্ট কৈলাশহর পুর পরিষদের সবকটি ওয়ার্ডেই প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছে কংগ্রেস। মনোনয়ন জমাকে কেন্দ্র করে এদিনের মিছিল ও কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি শহরের নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এবার ভোটের ময়দানে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি করের বোঝা কমানোর আশ্বাসকে কতটা গুরুত্ব দেন শহরের ভোটাররা, সেটাই দেখার বিষয়।